audio audioduration (s) 1 17 | text stringlengths 8 180 |
|---|---|
আমি অর্ক | |
আমার পরিচয় অনেক কিছু হতে পারতো; ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, আইএএস, ইন্টারন্যাশনাল মাল্টি লেভেল স্পিকার। | |
কিন্তু বাস্তবে আমি যা, সেটা শুনলে আপনি হাসবেন আর আমি কাঁদবো। | |
আমি হচ্ছে “বাবা ও তো খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিল! কিন্তু জানিনা কি হলো”, সেই টাইপের কেরিয়ার আমার। | |
আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় মিথ্যে কি জানেন? | |
বাবা-মা তোমার ভালোর জন্যই সবকিছু চায়, এবং তারজন্যই চাপ দেয়। | |
আমার জন্য ভালো। | |
আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি। | |
আমি অ আ ক খ লেখার চেষ্টা করছি ওদিকে মা পেছন থেকে চাপ দিচ্ছে “তুই এখনো সুন্দর করে অ আ লিখতে পারিস না, আর পাশের বাড়ির পুচকি রিয়া কে দেখ! ও অলরেডি এ বি সি ডি, টেবিল, গীতা, সব মুখস্ত!” | |
পুচকি রিয়ার সাথে তখন থেকেই তুলনা শুরু। | |
আমি তখন থেকেই বুঝে গেছিলাম, আমার সবথেকে বড় প্রতিক্ষন কখনই পাকিস্তান, টেররিস্ট বা অন্যান্য ইনোভেসন নয়, আমার প্রতিপক্ষ পাশের ফ্ল্যাটের বাচ্চা। | |
আমার শৈশবের তিনটে ভয় ছিল। | |
প্রথমত, গণিতিক টেবিল, দ্বিতীয়ত স্কুলের ক্লাস টেস্ট এবং তৃতীয়, মাসিক ফিস আর রিপোর্ট কার্ড। | |
একবার মনে আছে, ক্লাস থ্রি তে পড়ি, স্যার হঠাৎ বললেন “কে কে বড় হয়ে কি হবে তা লেখো এবং সবাই বলে শোনাও!” | |
সবাই বলে উঠলো — কেউ বলছে “আমি ডাক্তার”, কেউ বলছে “আমি ইঞ্জিনিয়ার”, কেউ বলছে “সায়েন্টিস্ট”। | |
আমি দাঁড়িয়ে বললাম “আমি বড় হয়ে শুধু একটু ফ্রি থাকতে চাই”। | |
পুরো ক্লাস হাসলো। | |
স্যার শুধু একবার তাকিয়ে বললো “ওকে, ওতে ফিউচার আছে? ফ্রি থাকতে চাও তো? তাহলে শুনে রাখো — জীবনে কখনো ফ্রি থাকতে পারবেনা। এটাই সিস্টেম।” | |
আমাদের দেশে, বাচ্চা জন্মের আগে থেকেই কেরিয়ার ডিসিশন হয়ে যায়। | |
আল্ট্রাসাউন্ডের রিপোর্ট আসে — বাচ্চা সুস্থ আছে। | |
বাবা — “ডাক্তারবাবু, ইঞ্জিনিয়ার হবে তো?” | |
বাচ্চা তখন পেটে ভেসে ভেসে ভাবছে — হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম! অন্তত প্রথমে জন্মাতে তো দাও! | |
আমার বাবা ছিলেন ক্লাসিক মধ্যবিত্ত বাবা। | |
নিজে ছোটবেলায় সাইন্স নিয়ে ব্যর্থ তাই ছেলে মানেই সাইন্স নিয়ে সফল হতে হবে। | |
ওনার তিনটে স্বপ্ন — ইঞ্জিনিয়ারিং, নিজের ফ্ল্যাট, এবং মৃত্যুর আগে অন্তত একবার বিদেশ থেকে ঘোরা। | |
আর আমার তিনটেই দুঃস্বপ্ন — ইঞ্জিনিয়ারিং, নিজের ফ্ল্যাটের ইএমআই আর বিদেশ যাবার প্ল্যানের খরচ। | |
প্রথম যে জিনিসটা আমি জীবনে শিখেছি, সেটা “প্রথম হও” নীতি না। সেটা ছিল — “চুপচাপ বসে থাকো, বেশি কথা বলবেনা” | |
আমাদের দেশে ভদ্র বাচ্চার ডেফিনেশন হচ্ছে — যে প্রশ্ন করেনা, যে তর্ক করেনা, যে শুধু মঞ্চে উঠবে, কবিতা বলবে। | |
আর নামার পরেই পেছন থেকে মা বলে উঠবে “আরে! এতো জোরে কাঁপছিলি কেন?” | |
বুঝলেন? স্টেজ ফিয়ার। | |
আমাদের দেশের বড়োদের হিসাবে, এগুলো আমরাই বানাই আমাদের মাথায়। | |
আসলে এরকম কিছু নেই। | |
একদিন, টিফিন ব্রেকে আমি স্যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম “স্যার! আমরা এতো টেনশন নিয়ে পরীক্ষায় বসি, আর আপনারা পুরো ক্লাস ফেল করিয়ে দিয়ে দিব্বি বাসায় যান। আপনাদের টেনশন হয়না?” | |
স্যার বললেন— “আমরা টেনশনে থাকিনা। আমাদের কাজটাই টেনশন দেওয়া!” | |
তখনই বুঝেছি, বাংলার আসল প্রোডাক্ট পাট, চাল, জুট না। | |
বাংলার প্রথম প্রোডাক্ট— টেনশন! | |
আমাদের স্কুল ছিল একদম অদ্ভুত। | |
মোটো ছিল “ডিসিপ্লিন, ডেডিকেশন, ডেভেলপমেন্ট”, কিন্তু বাস্তবে যা হতো “ডিপ্রেশন, ডেটা আর ফাইন”। | |
দশ মিনিট লেট্? ফাইন। | |
টাই ঠিকঠাক নয়? ফাইন। | |
চুল একটু বড়? ফাইন। | |
একদিন পিওন কাকু দেরি করো স্কুলে এলেন, আর প্রিন্সিপাল স্যার বললেন “তোমারো ফাইন। তুমিও দেরি করে এসছো!” | |
আমি ভাবলাম, এখন যদি এখানে দাঁড়িয়ে থাকি একটু পরে হয়তো তিনি বলে উঠবেন “ব্যাটা অর্ক, তুই জন্মে দেরি করেছিস! তোর ফ্যামিলির ওপরও ফাইন!” | |
আমার মা, অবিশ্বাশ্য ধরণের পসিটিভ চিন্তাধারার মানুষ। | |
কিন্তু সেটা আমার ওপর খুব খারাপ গিয়েছে। | |
পরীক্ষা আছে, আমি টেনশনে ঘামছি, মা এসে বলছে “ভয় পাস না, সব ঠিক হয়ে যাবে!” | |
আমি বলি “মা, মার্কস কম এলেও সব কিকরে ঠিক হয়ে যাবে?” | |
মা বললো “হ্যাঁ রে, সব ঠিক হয়ে যাবে। শুধু আত্মীয়জনদের সামনে একটু মুখ দেখাতে কষ্ট হবে। বাকি সব ঠিক হয়ে যাবে”। | |
এই এক আত্মীয়স্বজন। | |
এরা যারা, তারা আসলে আমাদের দেশের অফিসিয়াল ভেরিফিকেশন টিম। | |
তাদের একটাই কাজ। | |
ওরা আসে, আমাদের রিপোর্ট কার্ড দেখে যায়, অ্যাচিভমেন্ট কম হলে গলা খাকরি দেয় আর শেষে ক্লাসিক সংলাপ “আমাদের সময় কিন্তু…” ব্লা ব্লা ব্লা। | |
কিন্তু কোনোদিন খেয়াল করে দেখেছেন? তাঁদের “আমাদের সময়” সবসময় ভালো ছিল। রাস্তাঘাট, মানুষ, খাবার, শিক্ষা। | |
একমাত্র ভালো ছিলোনা ওনাদের মার্কশিট! | |
আমি অর্ক | |
আমার পরিচয় অনেক কিছু হতে পারতো; ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, আইএএস, ইন্টারন্যাশনাল মাল্টি লেভেল স্পিকার। | |
কিন্তু বাস্তবে আমি যা, সেটা শুনলে আপনি হাসবেন আর আমি কাঁদবো। | |
আমি হচ্ছে “বাবা ও তো খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিল! কিন্তু জানিনা কি হলো”, সেই টাইপের কেরিয়ার আমার। | |
আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় মিথ্যে কি জানেন? | |
বাবা-মা তোমার ভালোর জন্যই সবকিছু চায়, এবং তারজন্যই চাপ দেয়। | |
আমার জন্য ভালো। | |
আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি। | |
আমি অ আ ক খ লেখার চেষ্টা করছি ওদিকে মা পেছন থেকে চাপ দিচ্ছে “তুই এখনো সুন্দর করে অ আ লিখতে পারিস না, আর পাশের বাড়ির পুচকি রিয়া কে দেখ! ও অলরেডি এ বি সি ডি, টেবিল, গীতা, সব মুখস্ত!” | |
পুচকি রিয়ার সাথে তখন থেকেই তুলনা শুরু। | |
আমি তখন থেকেই বুঝে গেছিলাম, আমার সবথেকে বড় প্রতিক্ষন কখনই পাকিস্তান, টেররিস্ট বা অন্যান্য ইনোভেসন নয়, আমার প্রতিপক্ষ পাশের ফ্ল্যাটের বাচ্চা। | |
আমার শৈশবের তিনটে ভয় ছিল। | |
প্রথমত, গণিতিক টেবিল, দ্বিতীয়ত স্কুলের ক্লাস টেস্ট এবং তৃতীয়, মাসিক ফিস আর রিপোর্ট কার্ড। | |
একবার মনে আছে, ক্লাস থ্রি তে পড়ি, স্যার হঠাৎ বললেন “কে কে বড় হয়ে কি হবে তা লেখো এবং সবাই বলে শোনাও!” | |
সবাই বলে উঠলো — কেউ বলছে “আমি ডাক্তার”, কেউ বলছে “আমি ইঞ্জিনিয়ার”, কেউ বলছে “সায়েন্টিস্ট”। | |
আমি দাঁড়িয়ে বললাম “আমি বড় হয়ে শুধু একটু ফ্রি থাকতে চাই”। | |
পুরো ক্লাস হাসলো। | |
স্যার শুধু একবার তাকিয়ে বললো “ওকে, ওতে ফিউচার আছে? ফ্রি থাকতে চাও তো? তাহলে শুনে রাখো — জীবনে কখনো ফ্রি থাকতে পারবেনা। এটাই সিস্টেম।” | |
আমাদের দেশে, বাচ্চা জন্মের আগে থেকেই কেরিয়ার ডিসিশন হয়ে যায়। | |
আল্ট্রাসাউন্ডের রিপোর্ট আসে — বাচ্চা সুস্থ আছে। | |
বাবা — “ডাক্তারবাবু, ইঞ্জিনিয়ার হবে তো?” | |
বাচ্চা তখন পেটে ভেসে ভেসে ভাবছে — হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম! অন্তত প্রথমে জন্মাতে তো দাও! | |
আমার বাবা ছিলেন ক্লাসিক মধ্যবিত্ত বাবা। | |
নিজে ছোটবেলায় সাইন্স নিয়ে ব্যর্থ তাই ছেলে মানেই সাইন্স নিয়ে সফল হতে হবে। | |
ওনার তিনটে স্বপ্ন — ইঞ্জিনিয়ারিং, নিজের ফ্ল্যাট, এবং মৃত্যুর আগে অন্তত একবার বিদেশ থেকে ঘোরা। | |
আর আমার তিনটেই দুঃস্বপ্ন — ইঞ্জিনিয়ারিং, নিজের ফ্ল্যাটের ইএমআই আর বিদেশ যাবার প্ল্যানের খরচ। | |
প্রথম যে জিনিসটা আমি জীবনে শিখেছি, সেটা “প্রথম হও” নীতি না। সেটা ছিল — “চুপচাপ বসে থাকো, বেশি কথা বলবেনা” | |
আমাদের দেশে ভদ্র বাচ্চার ডেফিনেশন হচ্ছে — যে প্রশ্ন করেনা, যে তর্ক করেনা, যে শুধু মঞ্চে উঠবে, কবিতা বলবে। | |
আর নামার পরেই পেছন থেকে মা বলে উঠবে “আরে! এতো জোরে কাঁপছিলি কেন?” | |
বুঝলেন? স্টেজ ফিয়ার। | |
আমাদের দেশের বড়োদের হিসাবে, এগুলো আমরাই বানাই আমাদের মাথায়। | |
আসলে এরকম কিছু নেই। | |
একদিন, টিফিন ব্রেকে আমি স্যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম “স্যার! আমরা এতো টেনশন নিয়ে পরীক্ষায় বসি, আর আপনারা পুরো ক্লাস ফেল করিয়ে দিয়ে দিব্বি বাসায় যান। আপনাদের টেনশন হয়না?” | |
স্যার বললেন— “আমরা টেনশনে থাকিনা। আমাদের কাজটাই টেনশন দেওয়া!” | |
তখনই বুঝেছি, বাংলার আসল প্রোডাক্ট পাট, চাল, জুট না। | |
বাংলার প্রথম প্রোডাক্ট— টেনশন! | |
আমাদের স্কুল ছিল একদম অদ্ভুত। | |
মোটো ছিল “ডিসিপ্লিন, ডেডিকেশন, ডেভেলপমেন্ট”, কিন্তু বাস্তবে যা হতো “ডিপ্রেশন, ডেটা আর ফাইন”। | |
দশ মিনিট লেট্? ফাইন। | |
টাই ঠিকঠাক নয়? ফাইন। | |
চুল একটু বড়? ফাইন। | |
একদিন পিওন কাকু দেরি করো স্কুলে এলেন, আর প্রিন্সিপাল স্যার বললেন “তোমারো ফাইন। তুমিও দেরি করে এসছো!” | |
আমি ভাবলাম, এখন যদি এখানে দাঁড়িয়ে থাকি একটু পরে হয়তো তিনি বলে উঠবেন “ব্যাটা অর্ক, তুই জন্মে দেরি করেছিস! তোর ফ্যামিলির ওপরও ফাইন!” | |
আমার মা, অবিশ্বাশ্য ধরণের পসিটিভ চিন্তাধারার মানুষ। | |
কিন্তু সেটা আমার ওপর খুব খারাপ গিয়েছে। | |
পরীক্ষা আছে, আমি টেনশনে ঘামছি, মা এসে বলছে “ভয় পাস না, সব ঠিক হয়ে যাবে!” |
End of preview. Expand in Data Studio
README.md exists but content is empty.
- Downloads last month
- 10